কাশ্মীরি পন্ডীতদের নিয়ে আলোচনা

 এখনো পর্যন্ত একটি বিষয় সম্বন্ধে জানতে পারলাম না যে,, একদল মানুষ কোনো প্রতিবাদ প্রতিরোধ ছাড়াই নিজেদের ভিটেমাটি ত্যাগ করে চলে আসলেন কেনো ?? 


কৃষকদের জমির উপরে কোপ পড়তেই,, তারা সবকিছু ছেড়ে দিয়ে দিল্লি বর্ডারে এসে,, দীর্ঘ 13 মাস পর্যন্ত বিক্ষোভ আন্দোলন করে গেলো।। 


জল-জমি-জঙ্গল নিজেদের অধিকারে রাখার জন্য হাজার হাজার আদিবাসী দীর্ঘকাল ধরে সংঘর্ষ চালিয়ে যাচ্ছে,, রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে।। 


কাশ্মীর উপত্যকায় এখনো জাঠ - গুর্জর সম্প্রদায়ের মানুষ মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছে।। তারা কখনোই নিজেদের নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে দিল্লি দরবারে এসে বিক্ষোভ অভিযোগ করেনি।। 


1967 সালের পর থেকেই দেশের 12-টি রাজ্যের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের উপর উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রীয় অত্যাচারের ষ্ট্রিম-রোলার চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।। কই,, তারা তো ভিটেমাটি ছেড়ে কোথায় পালিয়ে যায়নি !! 


তাহলে,, কাশ্মীরি পন্ডিতরা কেনো কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই দিল্লিতে চলে এলো ?? 



আদিবাসী গণহত্যা কখনো এই দেশে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেনি।। তাদের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস কখনো লাইমলাইটে আসেনি।। তাদের কাছ থেকে জঙ্গল কেড়ে নেওয়ার ব্যাথা কেউ কখনো অনুভব করেনি।। কাশ্মীরি পন্ডিতদের মতো তাদের জন্য কোনো স্পেশাল প্যাকেজের ব্যাবস্থা করা হয়নি।। 


কাশ্মীরি পন্ডিতদের বাস্তচ্যুত হয়ে চলে আসা অত্যন্ত কষ্টের।। তাদের জন্য গোটা দেশের মানুষের সমবেদনা রয়েছে,, এবং এটাই স্বাভাবিক।।


কিন্তু,, ফিরে যেতে হবে,, এর প্রেক্ষাপটে।। 


1989 সাল পর্যন্ত উপত্যকার কাশ্মীরি পন্ডিতরা ছিলেন সুখে শান্তিতে।। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের উন্নয়ন ছিলো চোখে পড়ার মতো।। শিক্ষা-দীক্ষা,, চাকরি-বাকরি এবং অর্থনৈতিক অবস্থার নিরিখে তারা ছিলেন উপত্যকার অন্যান্য জাতির চেয়েও কয়েক ধাপ উপরে।। 


এরপর,, হঠাৎ করে দিল্লিতে বিজেপি সমর্থিত সরকারের আগমন ঘটে।। জনগণের ভোটে নির্বাচিত কাশ্মীরের সরকারকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়।। লাগু করা হয় রাষ্ট্রপতি শাষন।। রাজ্যপাল জগমোহন তখন উপত্যকার সর্বেসর্বা।।


এরপর নিপীড়ন শুরু হয়।। কাশ্মীরি পন্ডিতরা  উপত্যকা ছেড়ে রওনা দিলেন দিল্লির দিকে।। 


এরপর কাশ্মীরি পন্ডিতদের জাতীয় ইস্যু হিসাবে তুলে ধরে,, বিজেপি তাদের রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নিয়েছে।।


তৎকালীন কংগ্রেস সরকার এই সমস্ত বিতাড়িত কাশ্মীরি পন্ডিতদের উন্নয়নে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।। আজকের দিনে পালিয়ে আসা কাশ্মীরি পন্ডিতরা দিল্লির সবচাইতে অভিজাত শ্রেণীতে পরিণত হয়ে গেছে।। 


এরা বিভিন্ন সময়ে বিজেপির হাত ধরে,, বছরে বেশ কয়েকবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে এসে ধর্ণা দিয়ে,, লোভনীয় সরকারি প্যাকেজ আদায় করে নিয়েছে।। বিভিন্ন সময়ে সরকারকে ব্লাকমেইল করে,, নিজেদের দাবিদাওয়া আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছে।। 


বিজেপি বিভিন্ন সময় নিজেদের কাশ্মীরি পন্ডিত সম্প্রদায়ের হিতাকাঙ্খী হিসাবে তুলে ধরেছে।। বর্তমানে বিজেপি বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার নিয়ে দিল্লির শাষণভার পরিচালনা করে চলেছে।। ধারা 370 উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।। কিন্তু,, কাশ্মীরি পন্ডিতদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে কি ?? 


দীর্ঘ 8 বছর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার পরিচালনা করার পরেও,, কেনো কাশ্মীরি পন্ডিতদের পুনর্বাসন দেওয়া হলো না ?? পুণর্বাসন না পাওয়ায় কারণে কাশ্মীরি পন্ডিতদের পক্ষ হতে কোনো বিক্ষোভ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে কি ?? পুনর্বাসন ইস্যুতে কেনো সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হচ্ছে না ?? 


আজ,, প্রতিবাদের পথ পরিহার করে,, দেশের মানুষের সহানুভূতি আদায় করে নেওয়ার জন্য,, সিনেমা নির্মাণ করা হচ্ছে।। এতদিন সরকারকে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করার পর,, এখন দেশের মানুষকে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।। 


আদিবাসীরা তাদের অধিকার লড়াই করে নেওয়ার জন্য অবিরাম আন্দোলন করে চলেছে।। রাষ্ট্রশক্তি তাদের ইঁদুরের মতো যখন তখন হত্যা করে চলেছে।। রাষ্ট্রশক্তি কৃষকদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করে চলেছে।। এগুলো নিয়ে কারো কোনো হেলদোল নেই কেনো ??


1995 সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট 8 লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করেছে।। এদের নিয়ে কোনো সিনেমা তৈরি হয় না।। এরা মিডিয়া এবং সরকারের কাছে চিরকাল উপেক্ষিত হয়ে রয়ে গেছে।। এদের জন্য কোনো সরকারি স্পেশাল প্যাকেজ বরাদ্দ করা হয় না।। 


জাঠ-গুজ্জর-শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ এখনো কাশ্মীর উপত্যকায় বহাল তবিয়তে বসবাস করে চলেছে।। সমস্যা তাদেরকেও হয়তো ফেস করতে হয়েছে।। কিন্তু,, তারা নিজেদের মাটি কামড়ে পড়ে থেকে,, লড়াই চালিয়ে গেছে।। তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়ে চলেছে।। তারা কাপুরুষের মতো পালিয়ে এসে,, দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেনি।।


সিনেমা বানিয়ে সস্তা সহানুভূতি আদায় করে নেওয়া,, কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না।। কাশ্মীরি পন্ডিতদের উচিত,, পুণর্বাসনের জন্য বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা।। যদিও তারা এই পথ অবলম্বন করবে না।। 


কারণ,, তারা উপত্যকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে,, বিশেষ করে রাজধানী শহর দিল্লিতে দারুণ সরকারি প্যাকেজের সুবিধা ভোগ করে,, বহাল তবিয়তে রয়েছে।। উপত্যকার চেয়েও অত্যন্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে রয়েছে।। 


তাই আন্দোলন নয়,, তাদের উদ্দেশ্য সিনেমা নির্মাণ করে,, গোটা দেশের মানুষের সিমপ্যাথি আদায় করে নেওয়া।। তারা সেটাই করে চলেছে।।


👍👍👍👍👍👍

0 Response to "কাশ্মীরি পন্ডীতদের নিয়ে আলোচনা"

Post a Comment

Powered by Blogger | Converted by BloggerTheme