EVM কি আসলেই হ্যাকঅরা যায়??
March 09, 2022
নব প্রজন্মের সৃষ্টি
2009 সালের লোকসভা আসনে পরাজিত হবার পর,, বিজেপি দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী "লালকৃষ্ণ আডবানী" EVM মেশিনে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন।। এর পরেই আডবানী-কে ধীরে ধীরে সাইড-লাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হলো।।
RSS এর তথাকথিত বুদ্ধিজীবী এবং ইলেকশন এ্যনালিষ্ট GVL নরসীমা রাও 2010 সালে EVM এর নিরপেক্ষ ভুমিকার বিরুদ্ধে একটি পুস্তক রচনা করেন।। বইটি তৎকালীন বিজেপি সর্বভারতীয় প্রেসিডেন্ট নীতিন গডকড়ি প্রকাশ করেন।। এর পরেই,, নীতিন গডকড়ি সভাপতি হতে সরে গেলেন।। নরসীমা রাও অন্তরালে চলে গেলেন।। তাকে আর দেখা গেলো না।।
2017 সালের নির্বাচনের পর আম আদমি পার্টি EVM এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলো।। তাদের বিধায়ক সৌরভ ভরদ্বাজ বিধানসভার মধ্যেই EVM হ্যাক করে দেখিয়ে দিলেন।। তিনি নির্বাচন কমিশনের দিকে সরসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন - "যে কোনো 2 ঘন্টার জন্য কয়েকশো EVM দেওয়া হোক।। তিনি ইচ্ছে মতো ফলাফল করে দেখিয়ে দিতে পারবেন।।" তার পর সৌরভ ভরদ্বাজ আড়ালে চলে গেলেন।। তাকে আর খুঁজে পাওয়া গেলো না।।
সৌরভের চ্যালেঞ্জের পর,, ইলেকশন কমিশন নতুন একটা ড্রামা করে।। প্রত্যেক দলকে ইনভাইট করা হলো,, EVM হ্যাক করে দেখানোর জন্য।। কিন্তু,, হাস্যকর একটা শর্ত রাখা হলো।। হ্যাক করে দেখাতে হবে,, কিন্তু,, EVM স্পর্শ করা চলবে না।।
একবার ভেবে দেখুন,, স্পর্শ না করে,, EVM কে চোখ-মেরে বশে আনা সম্ভব নাকি ?? এ যেনো স্পর্শ না করেই,, প্রেগনেন্ট করে দেওয়ার মতো শর্ত।। এই শর্তের কারনে কোনো রাজনৈতিক দল এলো না।। EVM একেবারেই সতি-সাবিত্রী হয়ে গেলো।।
সুপ্রিম কোর্ট EVM এর সঙ্গে VVPAT লাগানোর নির্দেশ দিলো।। কেনো নির্দেশ দিলো,, সেটা আজ পর্যন্ত জানতে পারা গেলো না।। স্লিপ বের হবে,, কিন্তু,, গণনা করা হবে না।।
গুজরাট বিধানসভায় পরাজিত হয়ে,, হার্দিক প্যাটেল VVPAT গণনা করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাইকোর্টে গেছন।। হাইকোর্ট পরিস্কার মানা করে দিয়েছে।। তাহলে VVPAT রেখে লাভটা হলো কোথায় ??
2019 সালের নির্বাচনে দেশের 370 এর বেশি লোকসভা আসনে,, প্রদত্ত ভোট এবং গণনা করা ভোটের সংখ্যার মধ্যে তফাৎ লক্ষ করা গেলো।। চারিদিকে হাঙ্গামা শুরু হয়ে গেলো।। নির্বাচন কমিশন তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে 2019 সালের ভোটের হিসাব-নিকাশ তথ্য গায়েব করে দিলো।। এখনো পর্যন্ত কমিশনের ওয়েবসাইটে 2019 লোকসভার কোনো ইনফরমেশন খুঁজে পাওয়া যাবে না।।
উদাহরণ স্বরূপ উত্তর প্রদেশের বাদায়ুন লোকসভা অসন তুলে ধরলাম।। এখানে প্রদত্ত ভোটের চেয়ে,, গণনা করা ভোটের সংখ্যা 25 হাজারের চেয়েও বেশী।। পরাজিত সমাজবাদী প্রার্থী ধর্মেন্দ্র যাদব হাই কোর্টে মামলা করলেন।। কবে বিচার সম্পন্ন হবে,, সেটা কেউ জানে না।।
কিছুদিন আগে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় দাঁড়িয়ে,, স্পীকার এবং কংগ্রেস নেতা "নানা পটৌলে" EVM এর বিরুদ্ধে বিল নিয়ে এলেন।। বিলের মোদ্দাকথা হলো- মহারাষ্ট্রের কোনো নির্বাচনে EVM ব্যাবহার করা হবে না।। বিল পাশ হবার আগের দিন,, নানা পটৌলে স্পীকার পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।। তাকে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস সভাপতি করে দেওয়া হলো।। বিল কোথায় কিভাবে আটকে রয়েছে,, কেউ জানতে পারছে না।।
EVM এর নিরপেক্ষতা নিয়ে কমবেশি সমস্ত রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তুলেছে।। অথচ,, কোনো রাজনৈতিক দল EVM এর বিরোধিতা করে বড়োসড়ো কোনো আন্দোলন করেছে,, এমনটা দেখতে পাওয়া যাবে না।। যখন যে রাজনৈতিক দল পরাজিত হয়েছে,, তারাই তখন EVM কে দোষারোপ করেছে।। কিন্তু,, আর পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল EVM এর প্রতিবাদে যথেষ্ট সোচ্চার হয়েছে,, অথবা তীব্র EVM বিরোধী আন্দোলন করেছে,, এটা কখনো দেখা যায়নি।।
সবাই EVM এর বিরোধিতা করেছে।। সব রাজনৈতিক দল EVM এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।। এর পরেও EVM ব্যাবহার হচ্ছে,, এবং,, রাজনৈতিক দলগুলো মেনেও নিচ্ছে।।
সব দল বিরোধিতা করছে,, অথচ EVM বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে কোনো রাজনৈতিক দল পথে নেমে আন্দোলন করতে পারছেনা কেনো ??
তাহলে কি EVM ব্যাবহারের পক্ষে কোনো প্রেশার রয়েছে ?? যদি প্রেশার থাকে,, তাহলে সেটা দেশের প্রেশার নাকি বিদেশের ?? যে নির্বাচন পক্রিয়া আমেরিকা-ফ্রান্স-জাপানের মতো উন্নত দেশ রিজেক্ট করে দিয়েছে,, সেটা ভারতের সব রাজনৈতিক দলগুলো কেনো মেনে নিতে চাইছে??
অনেকেই বলবেন EVM মেশিনে ভোট করার পরেও তো বহু রাজ্যে বিজেপি পরাজিত হয়ে গেছে।। বিষয়টির সঙ্গে বিজেপির জয়-পরাজয় জড়িত নেই।। বিষয়টি হলো EVM মেশিনের নিরপেক্ষতা নিয়ে।। দেশের সাধারণ নির্বাচন এমন ভাবে করা উচিত,, যাতে দেশের প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষ সহজ সরল ভাবে বুঝতে পারে।।
নির্বাচনে এমন কিছু ব্যাবহার করা উচিত নয়,, যেটা বোঝার জন্য একজন মানুষকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে।।
👍👍
মূল লেখক- #রাভীস_কুমার।।(ndtv)
★★
অনুবাদ - #আলম_মিদ্দে।



0 Response to "EVM কি আসলেই হ্যাকঅরা যায়??"
Post a Comment