গুগল যুগ হোক অথবা মুঘল যুগ,, উভয় যুগের মধ্যে আমি অন্তত কোনো তফাৎ খুঁজে পেলাম না।।

 গুগল যুগ হোক অথবা মুঘল যুগ,, উভয় যুগের মধ্যে আমি অন্তত কোনো তফাৎ খুঁজে পেলাম না।।


গুগল যুগে হায়দরাবাদের দলিত যুবক,, মুসলিম সৈয়দ বংশের কন্যাকে প্রেম করে বিবাহ করলেন।। কন্যার পরিবার তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে,, মাঝ রাস্তার মোড়ে,, পিটিয়ে হত্যা করে ফেললো।।

একটা ঘটনা বলি,, শুনুন,, মুঘল যুগের ঘটনা।। প্রায় 400 বছর আগে,, মুঘল যুগে একজন ছেলে ছিলো,, নাম তার "কান্তা ধোবী।।" জন্মসূত্রে নিচু জাত,, কর্ম তার কাপড় ধোওয়া।। ধোবী হলেও কান্তার পিতা ছিলেন রাজ-ধোবী।। বাদশাহর পরিবারের কাপড়-চোপড় ধোওয়ার দায়িত্ব ন্যাস্ত ছিলো তার উপর।।

কান্তা তার বাবাকে সাহায্য করতে মাঝেমাঝেই যেতো বাদশাহী মহলে।। রাজকুমারী নূরজাহানের কাপড়ের সঙ্গে কবিতা লিখে পাঠাতো কান্তা।। কান্তার কবিতা ভীষণ ভালো লাগতো নূরজাহানের,, এরপর প্রেমে পড়েন একে অপরের।। কান্তা প্রকাশ্যে কবিতা লিখতে পারতো না।। কারণ,, তখনকার দিনে একজন ধোবীর কবিতা লেখা,, কাব্য-চর্চার কোনো অধিকার ছিলো না।।

মুঘলরা মুসলিম হলেও,, ব্রাম্ভ্রণ্যবাদ ব্যাবস্থায় কোনো হস্তক্ষেপ করেননি।। মুঘল আমলেও জাতিগত বর্ণবাদ অতীতের মতোই সমান তালে চলেছে।।

কান্তা-নূরজাহানের প্রেম একদিন প্রকাশ্যে চলে আসে।। শাহজাদী একজন ধোবীকে বিবাহ করবে,, এটা মেনে নেওয়া যাবে না।। কান্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো।। হাতির পায়ের নিচে,, কান্তা ধোবীর মাথা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেলো।।

অথচ,, তৎকালীন খিলজী অথবা মুঘল শাহজাদীদের সঙ্গে উচ্চবর্ণের হিন্দু রাজপুত,, ব্রাম্ভ্রণ গোত্রের পাত্রের সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে,, এমন ভুরি ভুরি প্রমান রয়েছে ইতিহাসের পাতায়।। আমরা কেবলমাত্র মুসলিম শাষকদের সঙ্গে,, হিন্দু রাজকুমারীর বিবাহের কথা জেনে থাকি।। কিন্তু,, মুসলিম শাহজাদীদের সঙ্গে অসংখ্য হিন্দু রাজপুত এবং ব্রাম্ভ্রণ পাত্রের বিবাহ হয়েছে,, এই খবর আমাদের অজানা থেকে গেছে।।

১) আকবরের সেনাপতি মান সিং ,, সম্রাট আকবরের ভাগ্নি এবং আদম খানের কন্যা,, মোবারক বেগমকে বিবাহ করেন।।

২) রাজা ছাত্রসাল বুন্দেলা বিবাহ করেন,, রুহানি বেগমকে।। রুহানি ছিলেন হায়দরাবদের নিজামের কন্যা।।

৩) আলাউদ্দিন খিলজী-র কন্যা ফিরোজা বিবাহ করেন রাজপুত রাজাকে।।

৪) মুঘল বাদশাহ বাবর তার কন্যার বিবাহ সম্পন্ন করেন,, কচ্ছের রাজা ধর্মচাদের সঙ্গে।।

৫) মেবারের রাজা রাজমল রাঠোরের,, মুঘল শাহজাদী মাহমুদা বেগমের সঙ্গে সম্পন্ন হয়।।

৬) মান সিংয়ের পুত্র জগৎ সিং বিবাহ করেন,, কুতুব খানের কন্যা মারিয়ামকে।।

৭) মারওয়াড়ের রাজা গজ সিং বিবাহ করেন,, দিল্লির সম্রাটের কন্যা আনোয়ারা বেগমকে।।

৮) চিতপবন ব্রাম্ভ্রণ বাজিরাও পেশওয়া,, মস্তানি নামের এক মুসলিম কন্যার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।।

৯) রাণা উদয় সিংহ,, আজমগড়ের রাজা সহ বহু হিন্দু রাজা,, মুসলিম পাত্রীকে বিবাহ করেন।।

ঘটনাগুলো অনেকেই পরধর্ম সহিষ্ণুতা অথবা হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির অভূতপূর্ব মেলবন্ধন হিসেবে দেখতে পারেন।। আমি কিন্তূ এমন কিছু দেখতে পাচ্ছি না।।

কারণ,, এই সম্প্রীতি অথবা সহিষ্ণুতার মধ্যে কোনো কৃষক,, শ্রমিক,, পশুপালক,, তথা সমাজের তথাকথিত নিম্নবর্গের মানুষের কোনো নাম দেখতে পাচ্ছি না।।

ছুঁতমার্গ মুঘল যুগেও ছিলো,, বর্তমান গুগল যুগেও রয়েছে।। এটাই রূঢ় বাস্তবতা,, এটাই চিরন্তন সত্য।।

রিজওয়ানুর রহমানের পরিবর্তে যদি বলিউডের কোনো খানের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠতো,, আমি নিশ্চিত,, লাক্স কম্পানীর কর্ণধার ফুলমালা দিয়ে বরণ করে নিতেন।।

বৈষম্য ধর্মীয় ক্ষেত্রে নেই,, বৈষম্য রয়েছে জাতপাত এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির নিরিখে।।

 

 লিখেছেন--  আলম মিদ্দে


কাশ্মীরি পন্ডীতদের নিয়ে আলোচনা

 এখনো পর্যন্ত একটি বিষয় সম্বন্ধে জানতে পারলাম না যে,, একদল মানুষ কোনো প্রতিবাদ প্রতিরোধ ছাড়াই নিজেদের ভিটেমাটি ত্যাগ করে চলে আসলেন কেনো ?? 


কৃষকদের জমির উপরে কোপ পড়তেই,, তারা সবকিছু ছেড়ে দিয়ে দিল্লি বর্ডারে এসে,, দীর্ঘ 13 মাস পর্যন্ত বিক্ষোভ আন্দোলন করে গেলো।। 


জল-জমি-জঙ্গল নিজেদের অধিকারে রাখার জন্য হাজার হাজার আদিবাসী দীর্ঘকাল ধরে সংঘর্ষ চালিয়ে যাচ্ছে,, রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে।। 


কাশ্মীর উপত্যকায় এখনো জাঠ - গুর্জর সম্প্রদায়ের মানুষ মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছে।। তারা কখনোই নিজেদের নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে দিল্লি দরবারে এসে বিক্ষোভ অভিযোগ করেনি।। 


1967 সালের পর থেকেই দেশের 12-টি রাজ্যের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের উপর উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রীয় অত্যাচারের ষ্ট্রিম-রোলার চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।। কই,, তারা তো ভিটেমাটি ছেড়ে কোথায় পালিয়ে যায়নি !! 


তাহলে,, কাশ্মীরি পন্ডিতরা কেনো কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই দিল্লিতে চলে এলো ?? 



আদিবাসী গণহত্যা কখনো এই দেশে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেনি।। তাদের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস কখনো লাইমলাইটে আসেনি।। তাদের কাছ থেকে জঙ্গল কেড়ে নেওয়ার ব্যাথা কেউ কখনো অনুভব করেনি।। কাশ্মীরি পন্ডিতদের মতো তাদের জন্য কোনো স্পেশাল প্যাকেজের ব্যাবস্থা করা হয়নি।। 


কাশ্মীরি পন্ডিতদের বাস্তচ্যুত হয়ে চলে আসা অত্যন্ত কষ্টের।। তাদের জন্য গোটা দেশের মানুষের সমবেদনা রয়েছে,, এবং এটাই স্বাভাবিক।।


কিন্তু,, ফিরে যেতে হবে,, এর প্রেক্ষাপটে।। 


1989 সাল পর্যন্ত উপত্যকার কাশ্মীরি পন্ডিতরা ছিলেন সুখে শান্তিতে।। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের উন্নয়ন ছিলো চোখে পড়ার মতো।। শিক্ষা-দীক্ষা,, চাকরি-বাকরি এবং অর্থনৈতিক অবস্থার নিরিখে তারা ছিলেন উপত্যকার অন্যান্য জাতির চেয়েও কয়েক ধাপ উপরে।। 


এরপর,, হঠাৎ করে দিল্লিতে বিজেপি সমর্থিত সরকারের আগমন ঘটে।। জনগণের ভোটে নির্বাচিত কাশ্মীরের সরকারকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়।। লাগু করা হয় রাষ্ট্রপতি শাষন।। রাজ্যপাল জগমোহন তখন উপত্যকার সর্বেসর্বা।।


এরপর নিপীড়ন শুরু হয়।। কাশ্মীরি পন্ডিতরা  উপত্যকা ছেড়ে রওনা দিলেন দিল্লির দিকে।। 


এরপর কাশ্মীরি পন্ডিতদের জাতীয় ইস্যু হিসাবে তুলে ধরে,, বিজেপি তাদের রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নিয়েছে।।


তৎকালীন কংগ্রেস সরকার এই সমস্ত বিতাড়িত কাশ্মীরি পন্ডিতদের উন্নয়নে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।। আজকের দিনে পালিয়ে আসা কাশ্মীরি পন্ডিতরা দিল্লির সবচাইতে অভিজাত শ্রেণীতে পরিণত হয়ে গেছে।। 


এরা বিভিন্ন সময়ে বিজেপির হাত ধরে,, বছরে বেশ কয়েকবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে এসে ধর্ণা দিয়ে,, লোভনীয় সরকারি প্যাকেজ আদায় করে নিয়েছে।। বিভিন্ন সময়ে সরকারকে ব্লাকমেইল করে,, নিজেদের দাবিদাওয়া আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছে।। 


বিজেপি বিভিন্ন সময় নিজেদের কাশ্মীরি পন্ডিত সম্প্রদায়ের হিতাকাঙ্খী হিসাবে তুলে ধরেছে।। বর্তমানে বিজেপি বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার নিয়ে দিল্লির শাষণভার পরিচালনা করে চলেছে।। ধারা 370 উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।। কিন্তু,, কাশ্মীরি পন্ডিতদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে কি ?? 


দীর্ঘ 8 বছর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার পরিচালনা করার পরেও,, কেনো কাশ্মীরি পন্ডিতদের পুনর্বাসন দেওয়া হলো না ?? পুণর্বাসন না পাওয়ায় কারণে কাশ্মীরি পন্ডিতদের পক্ষ হতে কোনো বিক্ষোভ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে কি ?? পুনর্বাসন ইস্যুতে কেনো সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হচ্ছে না ?? 


আজ,, প্রতিবাদের পথ পরিহার করে,, দেশের মানুষের সহানুভূতি আদায় করে নেওয়ার জন্য,, সিনেমা নির্মাণ করা হচ্ছে।। এতদিন সরকারকে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করার পর,, এখন দেশের মানুষকে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।। 


আদিবাসীরা তাদের অধিকার লড়াই করে নেওয়ার জন্য অবিরাম আন্দোলন করে চলেছে।। রাষ্ট্রশক্তি তাদের ইঁদুরের মতো যখন তখন হত্যা করে চলেছে।। রাষ্ট্রশক্তি কৃষকদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করে চলেছে।। এগুলো নিয়ে কারো কোনো হেলদোল নেই কেনো ??


1995 সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট 8 লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করেছে।। এদের নিয়ে কোনো সিনেমা তৈরি হয় না।। এরা মিডিয়া এবং সরকারের কাছে চিরকাল উপেক্ষিত হয়ে রয়ে গেছে।। এদের জন্য কোনো সরকারি স্পেশাল প্যাকেজ বরাদ্দ করা হয় না।। 


জাঠ-গুজ্জর-শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ এখনো কাশ্মীর উপত্যকায় বহাল তবিয়তে বসবাস করে চলেছে।। সমস্যা তাদেরকেও হয়তো ফেস করতে হয়েছে।। কিন্তু,, তারা নিজেদের মাটি কামড়ে পড়ে থেকে,, লড়াই চালিয়ে গেছে।। তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়ে চলেছে।। তারা কাপুরুষের মতো পালিয়ে এসে,, দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেনি।।


সিনেমা বানিয়ে সস্তা সহানুভূতি আদায় করে নেওয়া,, কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না।। কাশ্মীরি পন্ডিতদের উচিত,, পুণর্বাসনের জন্য বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা।। যদিও তারা এই পথ অবলম্বন করবে না।। 


কারণ,, তারা উপত্যকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে,, বিশেষ করে রাজধানী শহর দিল্লিতে দারুণ সরকারি প্যাকেজের সুবিধা ভোগ করে,, বহাল তবিয়তে রয়েছে।। উপত্যকার চেয়েও অত্যন্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে রয়েছে।। 


তাই আন্দোলন নয়,, তাদের উদ্দেশ্য সিনেমা নির্মাণ করে,, গোটা দেশের মানুষের সিমপ্যাথি আদায় করে নেওয়া।। তারা সেটাই করে চলেছে।।


👍👍👍👍👍👍

দ্য কাশ্মীর ফাইলস ~ আলম মিদ্দে

 #THE_KASHMIR_FILES...


বর্তমান রাজনীতি মিথ্যার উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।। এই রাজনীতি আমাদের ঘৃণা এবং হিংসা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারে না।। এই ঘৃণার রাজনীতি দেশটাকে একেবারে শেষ করে দিয়েছে।। যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে,, অচিরেই শেষ হয়ে যাবে।। 

মুষ্টিমেয় ধনী মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে চলাই আমাদের সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।। গুটিকয়েক পুঁজিপতির স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে,, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারে পতিত করে দেওয়া হয়ে চলেছে।। 


এখন মিথ্যা এবং অর্ধসত্য ইস্যুকে ফ্রন্টফুটে এনে,, ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে নিত্যদিনের সমসাগুলো।‌। এখন শিক্ষা,, স্বাস্থ্য,, চাকরি-বাকরি,, খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান,, এগুলো কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়।‌। ভিন্ন ধরনের নন-ইস্যুকে সামনে এনে এমন মগজ ধোলাই করে দেওয়া হচ্ছে,, জীবন্ত সমস্যাগুলো নিয়ে আর কেউ মাথা ঘামাতে চাইছে না।। এক কথায় আমাদের মস্তিষ্ক হাইজ্যাক করে,, তার মধ্যে গোবর ভরে দেওয়া হচ্ছে।। 


কাশ্মীরি পন্ডিতদের নিয়ে এর আগেও বহু সিনেমা নির্মিত হয়েছে।। কিন্তু,, বিগত 11 তারিখে মুক্তি পাওয়া সিনেমা "#কাশ্মীর_ফাইলস" একেবারে অন্য ধরনের একটি সিনেমা।। এই সিনেমার মাধ্যমে এক শ্রেণীর হাতে,, দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং মুসলমান বিদ্বেষের হাতিয়ার তুলে দেওয়া হলো।। 


কিন্তু,, প্রশ্ন হলো যখন কাশ্মীরি পন্ডিতদের বিতাড়ন করা হলো,, তখন দেশে কাদের সরকার ছিলো ?? 


কাশ্মীরে তখন RSS এর অত্যন্ত পছন্দের ব্যক্তি জগমোহন রাজ্যপাল ছিলেন।। কেন্দ্রে ভি,পি,সিং সরকার ছিলো,, বিজেপি দলের সার্পোট ছিলো এই সরকারের প্রতি।। 


তাহলে কাশ্মীরি পন্ডিতদের বিতাড়নের দায় কার উপর বর্তাবে ??


খবর নিয়ে দেখুন,, কাশ্মীরে মোট কতোবার গণহত্যা করা হয়েছে ?? এই গণহত্যার পিছনে সেনাবাহিনীর ভুমিকা কি ছিলো ?? মোট কতজন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বলি হতে হয়েছে ?? যখনই কাশ্মীরে গণহত্যা হয়েছে,, সেই সময় কেন্দ্রে কাদের সরকার ছিলো ?? 


খোঁজ খবর নিয়ে দেখুন,, কাশ্মীরি পন্ডিতরা কতটুকু সরকারি সাহায্য পেয়েছে,, এবং,, অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের দিকে সরকার কতটুকু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ?? কাশ্মীরে হাজার হাজার মানুষকে আর্মি তুলে এনেছে।। শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ।। শত শত মহিলা গণধর্ষণের শিকার।। এই সমস্ত অপরাধ কোন সরকারের আমলে হয়েছে ?? 


ডি-আই-জি দেবেন্দ্র সিংয়ের মতো শত শত মানুষ রয়েছেন,, যাদের কোলে কাশ্মীরের আতঙ্কবাদীরা লালিত-পালিত।। দেবেন্দ্র সিং-দের শাস্তি দেওয়া হয়না কেনো ?? কোথায় রয়েছেন দেবেন্দ্র।। এই সমস্ত শত শত দেবেন্দ্র সিং ধরা পড়েন,, আবার তারা আড়ালে চলে যান।। কারা এদের আড়াল করতে চাইছে ??


দেশের বিভিন্ন স্থানে অশান্তি রয়েছে।। নর্থ-ইষ্টের বহু জায়গায় সেনা এবং সাধারণ নাগরিক সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।। কিন্তু,, কেবলমাত্র কাশ্মীরের মাটিতেই প্যালেট-গান ব্যাবহার করা হয় কেনো ??


দান্তেওয়াড়া,, কাশ্মীর,, নর্থইস্টের মানুষের সঙ্গে আমাদের আর্মিরা বলে মাতৃসুলভ আচরণ করেছে।। শত শত মানুষ খুন হয়েছে আর্মির হাতে।। একজন নারীর যোনীপথে পাথর ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।। কি শাস্তি দেওয়া হয়েছে অপরাধী আর্মিদের ?? 

আর্মিদের কাছে নিপীড়ন,, নির্যাতন করার লাইসেন্স আছে নাকি ?? 


মধ্যপ্রদেশে ধ্রুব গুপ্তা সহ নয়জন বিজেপি কর্মী আতঙ্কবাদীদের সাহায্য করার অপরাধে অভিযুক্ত।। এছাড়া,, দেশের বহু জায়গায় RSS এবং বিজেপি কর্মীরা আতঙ্কবাদী সংগঠনকে সাহায্য করেছে।। বেশ কয়েকজন ধরাও পড়েছে।। তাদের কোনো শাস্তি হয়েছে কি ?? কেনো এবং কারা তাদের আড়াল করে চলেছে ?? 


আসল উদ্দেশ্য কাশ্মীরি পন্ডিতদের সাহায্য করা নয়।। বরং,, উদ্দেশ্য হলো কাশ্মীরি পন্ডিতদের সামনে এনে,, উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি প্রতিষ্টিত করা।। এক শ্রেণীর মানুষকে উস্কানি দিয়ে মুসলিম বিদ্বেষী হিসাবে গড়ে তোলা।। যাতে,, দৈনন্দিনের জীবন্ত সমস্যাগুলো ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দেওয়া যাবে।। 


বহু সময়ে বিজেপি শাষন ক্ষমতায় এসেছে।। বিগত 8 বছর ধরে নরেন্দ্র মোদি দিল্লির শাষণভার পরিচালনা করে চলেছে।। এই 8 বছরে একজন কাশ্মীরি পন্ডিতকে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে কি ?? কেনো দেওয়া হয়নি ??


আসলে,, কাশ্মীরি পন্ডিতদের নিয়ে জঘন্য রাজনীতি করা হয়ে চলেছে।

এই নোংরা রাজনীতির আরো একটা উদাহরণ হলো - #দ্য_কাশ্মীর_ফাইলস।।" 


★★★

আমরা আদিম যুগের অত্যন্ত সন্নিকটে পৌঁছে গেছি

 আমরা আদিম যুগের অত্যন্ত সন্নিকটে পৌঁছে গেছি।। 


পশ্চিম বঙ্গে সদ্য নির্বাচিত একজন কংগ্রেস কাউন্সিলর-কে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো।। 


গোটা দেশজুড়ে আফগানিস্তানের মতো আবহ।। ঠিক যেনো তালিবানি শাষন চলছে।। 


দীর্ঘদিন থেকেই বাংলায় বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা নিপিড়নের শিকার হয়ে চলেছে।। এটা উত্তোরোত্তর বেড়ে চলেছে।। প্রথমে টার্গেট ছিলো সিপিএম ,, তারপর বিজেপি,, এখন কংগ্রেস নেতাকর্মীদের রেয়াত করা হচ্ছে না।। যেনতেন প্রকারে বিরোধী কন্ঠস্বর রুদ্ধ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।। 


গোটা দেশের চিত্র এক এবং অভিন্ন।। 


তেলেঙ্গানা,, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বিরোধীদের টার্গেট করে চলেছে।। সেখানেও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা সমানভাবে নিপীড়িত।। 


উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ "বুলডোজার বাবা" হিসাবে স্বীকৃতি পেয়ে গেছেন।। আইন আদালতের কোনো প্রয়োজন নেই,, বুলডোজার চালিয়ে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা হবে।। 


মহারাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য তদন্ত সংস্থা একে অপরের বিপরীতমুখী।। 

কেন্দ্রীয় সংস্থা রাজ্যের মন্ত্রীদের এবং রাজ্য সংস্থা বিরোধী দলের নেতাদের পিছনে লেগে রয়েছে।। 


পাঞ্জাবে সরকার গঠনের পরেই,, পাজ্ঞাব পুলিশ AAP দলের হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে।। সেখানেও সোশ্যাল মিডিয়ায় সেন্সর লাগিয়ে একাধিক বিরোধী দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নানারকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে চলেছে।। 


কর্ণাটকে মুসলিম মহিলাদের হিজাব টার্গেট করে,, উগ্র দেশপ্রেম এবং ধর্মীয় উন্মাদনাকে সরকারি ভাবে সমর্থন দিয়ে যাওয়া হচ্ছে।। 


কেরলায় CPM এর টার্গেট হলো RSS.. সেখানকার শাষকদলের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিরোধী পক্ষ RSS কে খতম করে দেওয়া।। 


অসম এবং ত্রিপুরার জমিতে চলছে মুসলিম নিধন যজ্ঞ।‌। 


গণতন্ত্র এখন কাগজপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ।। জোর যার মুলুক তার,, গোটা দেশের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে এটাই ঘটে চলেছে।। 


পুলিশ প্রশাসন শাষক দলের দলদাসে পরিণত হয়ে গেছে।। আইন আদালত চুপচাপ বসে তামাশা দেখে চলেছে।। 


এসব সমালোচনা শুনে অনেকেই হেসে উড়িয়ে দেবেন।। কিন্তু,, অদুর ভবিষ্যতে এমন দিন আসতে চলেছে,, যেদিন আপনার কাছে হাসার কোনো সুযোগ থাকবে না।। 


আমরা অতি সত্বর আদিম যুগে পদার্পণ করতে চলেছি।। এভাবে চলতে থাকলে,, অতি অবিলম্বে আমরা আফগানিস্তানে পরিণত হয়ে যাবো।। 


😢😢

EVM কি আসলেই হ্যাকঅরা যায়??

 2009 সালের লোকসভা আসনে পরাজিত হবার পর,, বিজেপি দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী "লালকৃষ্ণ আডবানী" EVM মেশিনে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন।। এর পরেই আডবানী-কে ধীরে ধীরে সাইড-লাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হলো।। 


RSS এর তথাকথিত বুদ্ধিজীবী এবং ইলেকশন এ্যনালিষ্ট GVL নরসীমা রাও 2010 সালে EVM এর নিরপেক্ষ ভুমিকার বিরুদ্ধে একটি পুস্তক রচনা করেন।। বইটি তৎকালীন বিজেপি সর্বভারতীয় প্রেসিডেন্ট নীতিন গডকড়ি প্রকাশ করেন।। এর পরেই,, নীতিন গডকড়ি সভাপতি হতে সরে গেলেন।। নরসীমা রাও অন্তরালে চলে গেলেন।। তাকে আর দেখা গেলো না।।


2017 সালের নির্বাচনের পর আম আদমি পার্টি EVM এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলো।। তাদের বিধায়ক সৌরভ ভরদ্বাজ বিধানসভার মধ্যেই EVM হ্যাক করে দেখিয়ে দিলেন।। তিনি নির্বাচন কমিশনের দিকে সরসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন - "যে কোনো 2 ঘন্টার জন্য কয়েকশো EVM দেওয়া হোক।। তিনি ইচ্ছে মতো ফলাফল করে দেখিয়ে দিতে পারবেন।।" তার পর সৌরভ ভরদ্বাজ আড়ালে চলে গেলেন।। তাকে আর খুঁজে পাওয়া গেলো না।।


সৌরভের চ্যালেঞ্জের পর,, ইলেকশন কমিশন নতুন একটা ড্রামা করে।। প্রত্যেক দলকে ইনভাইট করা হলো,, EVM হ্যাক করে দেখানোর জন্য।। কিন্তু,, হাস্যকর একটা শর্ত রাখা হলো।। হ্যাক করে দেখাতে হবে,, কিন্তু,, EVM স্পর্শ করা চলবে না।। 

একবার ভেবে দেখুন,, স্পর্শ না করে,, EVM কে চোখ-মেরে বশে আনা সম্ভব নাকি ?? এ যেনো স্পর্শ না করেই,, প্রেগনেন্ট করে দেওয়ার মতো শর্ত।। এই শর্তের কারনে কোনো রাজনৈতিক দল এলো না।। EVM একেবারেই সতি-সাবিত্রী হয়ে গেলো।। 


সুপ্রিম কোর্ট EVM এর সঙ্গে VVPAT লাগানোর নির্দেশ দিলো।। কেনো নির্দেশ দিলো,, সেটা আজ পর্যন্ত জানতে পারা গেলো না।। স্লিপ বের হবে,, কিন্তু,, গণনা করা হবে না।। 

গুজরাট বিধানসভায় পরাজিত হয়ে,, হার্দিক প্যাটেল VVPAT গণনা করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাইকোর্টে গেছন।। হাইকোর্ট পরিস্কার মানা করে দিয়েছে।। তাহলে VVPAT রেখে লাভটা হলো কোথায় ?? 


2019 সালের নির্বাচনে দেশের 370 এর বেশি লোকসভা আসনে,, প্রদত্ত ভোট এবং গণনা করা ভোটের সংখ্যার মধ্যে তফাৎ লক্ষ করা গেলো।। চারিদিকে হাঙ্গামা শুরু হয়ে গেলো।। নির্বাচন কমিশন তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে 2019 সালের ভোটের হিসাব-নিকাশ তথ্য গায়েব করে দিলো।। এখনো পর্যন্ত কমিশনের ওয়েবসাইটে 2019 লোকসভার কোনো ইনফরমেশন খুঁজে পাওয়া যাবে না।।


উদাহরণ স্বরূপ উত্তর প্রদেশের বাদায়ুন লোকসভা অসন তুলে ধরলাম।। এখানে প্রদত্ত ভোটের চেয়ে,, গণনা করা ভোটের সংখ্যা 25 হাজারের চেয়েও বেশী।। পরাজিত সমাজবাদী প্রার্থী ধর্মেন্দ্র যাদব হাই কোর্টে মামলা করলেন।। কবে বিচার সম্পন্ন হবে,, সেটা কেউ জানে না।।


কিছুদিন আগে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় দাঁড়িয়ে,, স্পীকার এবং কংগ্রেস নেতা "নানা পটৌলে" EVM এর বিরুদ্ধে বিল নিয়ে এলেন।। বিলের মোদ্দাকথা হলো- মহারাষ্ট্রের কোনো নির্বাচনে EVM ব্যাবহার করা হবে না।। বিল পাশ হবার আগের দিন,, নানা পটৌলে স্পীকার পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।। তাকে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস সভাপতি করে দেওয়া হলো।। বিল কোথায় কিভাবে আটকে রয়েছে,, কেউ জানতে পারছে না।। 


EVM এর নিরপেক্ষতা নিয়ে কমবেশি সমস্ত রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তুলেছে।। অথচ,, কোনো রাজনৈতিক দল EVM এর বিরোধিতা করে বড়োসড়ো কোনো আন্দোলন করেছে,, এমনটা দেখতে পাওয়া যাবে না।। যখন যে রাজনৈতিক দল পরাজিত হয়েছে,, তারাই তখন EVM কে দোষারোপ করেছে।। কিন্তু,, আর পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল EVM এর প্রতিবাদে যথেষ্ট সোচ্চার হয়েছে,, অথবা তীব্র EVM বিরোধী আন্দোলন করেছে,, এটা কখনো দেখা যায়নি।।


সবাই EVM এর বিরোধিতা করেছে।। সব রাজনৈতিক দল EVM এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।। এর পরেও EVM ব্যাবহার হচ্ছে,, এবং,, রাজনৈতিক দলগুলো মেনেও নিচ্ছে।।

সব দল বিরোধিতা করছে,, অথচ EVM বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে কোনো রাজনৈতিক দল পথে নেমে আন্দোলন করতে পারছেনা কেনো ??


 তাহলে কি EVM ব্যাবহারের পক্ষে কোনো প্রেশার রয়েছে ?? যদি প্রেশার থাকে,, তাহলে সেটা দেশের প্রেশার নাকি বিদেশের ?? যে নির্বাচন পক্রিয়া আমেরিকা-ফ্রান্স-জাপানের মতো উন্নত দেশ রিজেক্ট করে দিয়েছে,, সেটা ভারতের সব রাজনৈতিক দলগুলো কেনো মেনে নিতে চাইছে??


অনেকেই বলবেন EVM মেশিনে ভোট করার পরেও তো বহু রাজ্যে বিজেপি পরাজিত হয়ে গেছে।। বিষয়টির সঙ্গে বিজেপির জয়-পরাজয় জড়িত নেই।। বিষয়টি হলো EVM মেশিনের নিরপেক্ষতা নিয়ে।। দেশের সাধারণ নির্বাচন এমন ভাবে করা উচিত,, যাতে দেশের প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষ সহজ সরল ভাবে বুঝতে পারে।।


নির্বাচনে এমন কিছু ব্যাবহার করা উচিত নয়,, যেটা বোঝার জন্য একজন মানুষকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে।। 

👍👍

মূল লেখক- #রাভীস_কুমার।।(ndtv)

★★

অনুবাদ - #আলম_মিদ্দে।

Powered by Blogger | Converted by BloggerTheme